একজন বুঝ বালিকা ও একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকের গল্প
![]() |
বুঝ বালিকার সাথে আমার প্রথম দেখা ২০১০ সালের মে মাসে। শেষ দেখা
জানুয়ারির মাঝামাঝিতে কিন্তু কোন কথা হয়নি সেদিন; আমি তাকে দেখেছি, সে আমায়। কিন্তু কোন
একটা অনর্থক ক্ষোভেই হয়তো কথা বলিনি, সে অবশ্য চেষ্টা করেছিল।
প্রথম দর্শনের কথা স্পষ্ট মনে আছে আজ অবধি। খানিকটা মেঘের পরে
চিরযৌবনময় খা খা রোদ ছিল সেদিন। আমি সেইন্ট ঈগলের ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে কলেজ মাঠের
পাঁশে বাবলা গাছের নিচে রাখা বৈদ্যুতিক পিলারের উপর বসে ঈশানের জন্য অপেক্ষা
করছিলাম; ও আসলে এক সাথে
ভাস্কর স্যারের বাসায় পড়তে যাবো।
কিছুক্ষণ পর কিছু কিচির মিচির শব্দ শুনে পিছনের দিকে তাকালাম, অনেকটা কৌতূহল বশতই; আর ঐ কৌতূহলটাই হয়তো
জীবনের সব চাইতে বড় ভুল ছিল।
দেখলাম তিনটে প্রমীলা আমার থেকে ৪০ কদম দূর থেকে আমার দিকের ধীর পায়ে হেঁটে
আসছে; কিছুটা এগোতেই লক্ষ
করলাম মাঝের মেয়েটি তার পুস্তকগুলোকে বুকের মাঝে জাপটে ধরে এগোচ্ছে ঠিক যেমনটা
একটি মা মুরগি তার বাচ্চার জন্য করে থাকে। অনেক বেশি গোছানো, পরিপাটি সুন্দর একটা
মেয়ে। প্রথম দেখেই তাঁকে কেন যেন ভালো লেগে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্য মেয়েগুলো আমাকে পাস কাটিয়ে চলে গেল...
কিছুক্ষণ পর ঈশান আসলে পরতে গিয়ে দেখি ঐ মেয়েও ভাস্কর স্যারের কাছে
পরতে এসেছে। আসলে আমাদের কারোর কলেজ ই ওখানে ছিল না। গ্রীষ্মের ২০-২৫ দিন ছুটি
কাজে লাগানোর নিষ্ফল চেষ্টা ছিল আরকি।
যাই হোক পড়া শেষে হয়ে সবাই এক সাথে হাঁটছি, তো আমি কি করলাম, সকাল বেলা কেনা এক
প্যাকেট ব্যান্সন সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট ধরালাম পুরা জেমস বন্ড
স্টাইলে। পিছন থেকে আবসা আবসা যেই শব্দ কানে ভেসে আসছিলো তাতে মনে হল, বুঝ বালিকার কোন এক
বান্ধবি বলছে, ছেলেটাকে দেখে তো
ভালই মনে হইছিল, এখন দেহি এইডাও বিড়ি
খায়।
তো কিছুক্ষণ পর যেটা হল তাতে আমি মমিন হয়ে গেলাম।
বুঝ বালিকা ধাম করে সামনে এসে বলতে লাগলো- এই তোমার সিগারেট খাওয়ার
বয়স হইছে? বলেই ঠোঁট থেকে
সিগারেট টা নিয়ে ফেলে দিয়ে চলে গেল। ভাগ্যিস প্যাকেট টা দেখতে পায় নি।
এর পর এক সাথে প্রতিদিন পরতে যাওয়া, সে আসার অনেক আগে থেকে কলেজ মাঠের কোনায়
আমার বসে থাকা, আড্ডাবাজি, ঘুরতে যাওয়া ভালই
চলছিলো...
তো ছুটির শেষের দিকে আমি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ি, তাই পড়তে যেতে
পারছিলামনা। তো একদিন অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় সুয়ে আছি, হঠাৎ করেই ফোন...
-হ্যালো
--আচ্ছা তুমি পড়তে আসছ না কেন?
-আমি একটু অসুস্থ।
--একটু অসুস্থ হলে কিছু হয় না, তুমি পড়তে আসো।
-একটু বলতে আমি ভালই অসুস্থ।
--তাহলে কবে পড়তে আসবা তুমি?
-আমি তো কালকে চলে যাবো।
--চলে যাবা মানে?
-চলে যাবো মানে চলে যাবো।
--কোথায়?
-আমরা যেখানে থাকি।
--কিন্তু কেন?
আই মিন এখনো তো ছুটি শেষ হয়নি।
-আসলে আব্বু চলে যেতে চাচ্ছে, আব্বুর ছুটিও শেষের দিকে তো তাই।
--তাহলে তোমাকে আজকে আসতেই হবে।
--আম্মু আজকে কোথাও বের হতে দিবেনা, বোঝার চেষ্টা কর।
--তুমি অসুস্থ তাই আসতে পারছনা তো, আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসছি তোমাকে নিতে...
-এই শোন শোন,
তুমি এসোনা, আম্মু কিছু মনে
করতে পারে।
--তাহলে তুমি আসো।
-আরে বাবা বললাম তো আমি অসুস্থ আর আম্মু আসতে দিবেনা।
--তুমি কি বুঝতে পারছ না, তুমি আজকে না আসলে আমাদের আর হয়তো দেখা
হবেনা, তুমি যেভাবেই হোক
একটু আসো প্লিজ।
-উমমম, আচ্ছা দেখি কি করা
যায়...
--দেখি না,
তোমাকে আসতে হবে,
আর না আসলে আমি তোমার বাসায় আসবো।
কি আর করা,
কোন রকম একটু ফ্রেস হয়ে, ১০২ ডিগ্রি জর নিয়ে বের হতে নিলাম, আর তখন আরেক বাগ হয়ে
দাঁড়ালো আম্মু । আম্মুর চোখ ফাঁকি দিয়ে বের হওয়া তো অসম্ভব। যাই হোক অনেক কষ্টে
আম্মুকে ভুলভাল বুঝিয়ে বের হয়ে ভাগ্যক্রমে একটা রিক্সা পেয়ে উঠতে না উঠতেই ফোন...
-হ্যালো
--হ্যাঁ, কই?
-আমি এইতো রিক্সায়।
--আচ্ছা গুড;
রিক্সা নিয়েই কলেজের মাঠের পাশে চলে আসো।
-ওকে
বুঝ বালিকা সেদিন আমাকে নিয়ে অনেক ঘুরলো, অনেক কিছু খাওয়ালো
তারপর যখন বাসায় আসতে ছিলাম... কিছুদূর আসার পর আবার ফোন...
-হ্যালো
--আচ্ছা শোন,
এখন যেখানেই আছো সেখানেই দারাও আর রিক্সাটাকে বিদায় করে দাও।
-কিন্তু কেন?
--যা বলছি তাই কর।
জানেন,
আমি সেই অসুস্থ শরীর নিয়েই সেখানে দাড়িয়ে পরলাম। এবং শুধু তাই নয়, ও আমাকে যখন যা করতে
বলতো আমি তাই করতাম,
কিন্তু ও ওর নিজের মত চলতো। ও আমার চাইতে বয়সে বড় ছিল তাই হয়তো এমনটা
হত :/
কিছুক্ষণ পর দেখি ও আরেকটা রিক্সা নিয়ে হাজির এবং রিক্সার হুড তোলা।
এসেই বলল তারাতারি উঠে পড়, আমিও ভদ্র ছেলের মত উঠে পড়লাম। তারপর বুঝ
বালিকা আমাকে আমার গন্তব্যের খানিকটা সামনে নিয়ে নামিয়ে দিয়ে বলল এবার যাও...
যখন চলে আসছিলাম তখনও রিক্সাটা ঠায় দাড়িয়ে ছিল আর বুঝ বালিকা রিক্সার
ফাঁকা দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।
তারপর...
তার কোন পর নেই,
আপনও নেই হয়তো
পরের দিন আমরা চলে এসেছিলাম...
চলবে...
চলবে...
